
নিউজ ডেস্ক (চট্টগ্রাম)
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে (এআরটি) বাংলাদশের ‘স্বার্থরক্ষা না হওয়ার’ সমালোচনার মধ্যে এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের এমন চুক্তির পাশে রেখে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।মঙ্গলবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।সেই প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই।
“আর আপনি যেটা বললেন, বাংলাদেশ ১৩১টাতে ‘শ্যাল’ বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।পরে দর কষাকষিতে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।এরপর নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমে ১ শতাংশ।
ওই চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে হওয়া এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন অনেকে।একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
এমন বক্তব্যের জবাবে এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার আগেই এ নিয়ে ‘সম্মতি দিয়েছিল’ বর্তমানে সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া এ চুক্তির দরকষাকষিতে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন সে সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমান।মন্ত্রী পদমর্যাদায় ওই দায়িত্বের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানোর পর বিএনপির নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
চুক্তি নিয়ে করা আরেক প্রশ্নে খলিল বলেন, “এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে, তোমাদেরকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, যেমন আমাদের ৩৯% বা ৩৭%। অন্যান্য সব দেশকে দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কি, সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।“আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি; পলিসিতে আমরা কি কি বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে, অন্যদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, আমাদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, সব মিলিয়ে দেখেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে (এআরটি) বাংলাদশের ‘স্বার্থরক্ষা না হওয়ার’ সমালোচনার মধ্যে এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের এমন চুক্তির পাশে রেখে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।মঙ্গলবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।সেই প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই।
“আর আপনি যেটা বললেন, বাংলাদেশ ১৩১টাতে ‘শ্যাল’ বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।পরে দর কষাকষিতে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।এরপর নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমে ১ শতাংশ।
ওই চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে হওয়া এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন অনেকে।একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিড।
এমন বক্তব্যের জবাবে এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার আগেই এ নিয়ে ‘সম্মতি দিয়েছিল’ বর্তমানে সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া এ চুক্তির দরকষাকষিতে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন সে সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমান।মন্ত্রী পদমর্যাদায় ওই দায়িত্বের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানোর পর বিএনপির নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
চুক্তি নিয়ে করা আরেক প্রশ্নে খলিল বলেন, “এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে, তোমাদেরকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, যেমন আমাদের ৩৯% বা ৩৭%। অন্যান্য সব দেশকে দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কি, সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।“আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি; পলিসিতে আমরা কি কি বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে, অন্যদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, আমাদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, সব মিলিয়ে দেখেন।”
বাংলাদেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ এই চুক্তি বাতিলের দাবি যেমন উঠেছে জাতীয় সংসদে, তেমনি এই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার উচ্চ আদালতে রিট করেছেন এক আইনজীবী।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।
আবেদনে বলা হয়, এই চুক্তির আলোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষায় বিচারিক হস্তক্ষেপের দাবিতে এই পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।